পবিত্র রমজান মাস মুসলমানদের জন্য রহমত, মাগফিরাত ও নাজাতের মাস। রোজা রাখার জন্য সঠিকভাবে নিয়ত করা অত্যন্ত জরুরি। আপনি যদি রোজা রাখার নিয়ত বাংলা উচ্চারণ এবং এর সঠিক অর্থ খুঁজছেন, তবে আপনি সঠিক জায়গায় এসেছেন।
রোজা রাখার নিয়ত বাংলা উচ্চারণ
রমজানের রোজা রাখার জন্য আরবি নিয়তটি বাংলায় এভাবে উচ্চারণ করতে হয়:
“নাওয়াইতু আন আছুমা গাদাম, মিন শাহরি রমাদানাল মুবারাকি ফারদাল্লাকা ইয়া আল্লাহু, ফাতাকাব্বাল মিন্নি ইন্নাকা আনতাস সামিউল আলিম।”
বাংলা অর্থ: হে আল্লাহ! আমি আগামীকাল পবিত্র রমজানের তোমার পক্ষ থেকে নির্ধারিত ফরজ রোজা রাখার ইচ্ছা পোষণ (নিয়ত) করলাম। অতএব তুমি আমার পক্ষ থেকে (আমার রোযা তথা পানাহার থেকে বিরত থাকাকে) কবুল কর, নিশ্চয়ই তুমি সর্বশ্রোতা ও সর্বজ্ঞানী।
রোজার নিয়ত সম্পর্কিত বিস্তারিত তথ্য
রোজা শুদ্ধ হওয়ার জন্য নিয়ত করা একটি ফরজ কাজ। নিয়ত শব্দের অর্থ হলো ‘মনের সংকল্প’ বা ইচ্ছা। চলুন এ সম্পর্কে আরও বিস্তারিত জেনে নিই।
রোজার আরবি নিয়ত
যাঁরা আরবিতে নিয়ত পড়তে চান, তাঁদের জন্য রোজার নিয়তটি নিচে দেওয়া হলো:
- نَوَيْتُ اَنْ اُصُوْمَ غَدًا مِّنْ شَهْرِ رَمْضَانَ الْمُبَارَكِ فَرْضًا لَّكَ يَا اَللهُ فَتَقَبَّلْ مِنِّى اِنَّكَ اَنْتَ السَّمِيْعُ الْعَلِيْمُ
রোজার নিয়ত কি মুখে উচ্চারণ করা বাধ্যতামূলক?
অনেকের মনেই প্রশ্ন থাকে যে, আরবিতে বা মুখে উচ্চারণ করে নিয়ত করা কি ফরজ?
- না, মুখে উচ্চারণ করা ফরজ বা বাধ্যতামূলক নয়। * নিয়ত মূলত অন্তরের সংকল্প। আপনি যদি মনে মনে ইচ্ছা করেন যে, “আমি আগামীকাল রমজানের ফরজ রোজা রাখব”, তবে আপনার নিয়ত আদায় হয়ে যাবে।
- তবে মুখে উচ্চারণ করা উত্তম (মুস্তাহাব), কারণ এতে অন্তরের সংকল্প আরও দৃঢ় হয়। আপনি চাইলে নিজের মাতৃভাষা অর্থাৎ বাংলাতেও নিয়ত করতে পারেন।
ইফতারের দোয়া বাংলা উচ্চারণ ও অর্থ
রোজা রাখার পর সূর্যাস্তের সাথে সাথে ইফতার করা সুন্নত। ইফতারের সময় নিচের দোয়াটি পড়তে হয়:
ইফতারের দোয়া (বাংলা উচ্চারণ):
“আল্লাহুম্মা লাকা ছুমতু ওয়া তাওয়াক্কালতু আ’লা রিযক্বিকা ওয়া আফতারতু বিরাহমাতিকা ইয়া আরহামার রাহিমীন।”
ইফতারের দোয়ার বাংলা অর্থ:
হে আল্লাহ! আমি তোমারই সন্তুষ্টির জন্য রোজা রেখেছি এবং তোমারই দেওয়া রিযিকের ওপর ভরসা করে ইফতার করছি, তোমার রহমতের আশায়, হে সর্বশ্রেষ্ঠ দয়ালু।
রোজা রাখার নিয়ত কখন করতে হয়?
রোজার নিয়ত করার একটি নির্দিষ্ট সময়সীমা রয়েছে। বাংলাদেশ ও ইসলামিক শরীয়ত অনুযায়ী নিয়ত করার নিয়মাবলি নিচে দেওয়া হলো:
- রাতের বেলা নিয়ত করা: সবচেয়ে উত্তম সময় হলো রাতের বেলা, অর্থাৎ ইফতারের পর থেকে সুবহে সাদিক (সেহরির শেষ সময়) এর আগ পর্যন্ত যেকোনো সময় আগামীকালের রোজার নিয়ত করে নেওয়া।
- সেহরির সময়: সেহরি খাওয়ার সময় মনে মনে রোজা রাখার সংকল্প করাই একটি কার্যকর নিয়ত হিসেবে গণ্য হয়।
- ভুলে গেলে করণীয়: যদি রাতে বা সেহরির সময় নিয়ত করতে ভুলে যান, তবে দুপুরের (ইসলামিক শরীয়তের ‘দাহওয়ায়ে কুবরা’ বা সূর্য মাথার ওপর আসার প্রায় এক ঘণ্টা আগে) আগ পর্যন্ত নিয়ত করা যাবে। তবে শর্ত হলো, সুবহে সাদিকের পর থেকে ওই সময় পর্যন্ত আপনি রোজা ভঙ্গকারী কোনো কাজ (যেমন: পানাহার) করেননি।
সচরাচর জিজ্ঞাসিত প্রশ্নাবলী
১. বাংলায় রোজার নিয়ত করলে কি রোজা হবে?
হ্যাঁ, অবশ্যই হবে। আল্লাহ মানুষের অন্তরের ভাষা বোঝেন। মনে মনে মাতৃভাষায় রোজা রাখার সংকল্প করলেই রোজা শুদ্ধ হয়ে যাবে।
২. সেহরি না খেতে পারলে কি রোজা হবে?
হ্যাঁ, ঘুম থেকে উঠতে না পারার কারণে যদি কেউ সেহরি খেতে না পারেন, তবুও তার রোজা হবে। আগের রাতে যদি রোজা রাখার সংকল্প থাকে, তবে সকালে উঠে রোজা কন্টিনিউ করতে হবে।
৩. প্রতিদিন কি আলাদাভাবে রোজার নিয়ত করতে হয়?
হানাফি মাজহাব অনুযায়ী, রমজান মাসের প্রতিটি রোজার জন্য প্রতিদিন আলাদা করে নিয়ত করা উত্তম। তবে কেউ যদি মাসের শুরুতে পুরো মাসের রোজা রাখার একবারে নিয়ত করেন, সেটাও গ্রহণযোগ্য হিসেবে অনেক আলেম মত দিয়েছেন। তবুও প্রতিদিনের নিয়ত প্রতিদিন করা বেশি নিরাপদ।
৪. রোজার নিয়তে ভুল হলে কি রোজা ভেঙে যায়?
উচ্চারণে সামান্য ভুল হলে রোজা ভাঙে না। মূল বিষয়টি হলো আপনার অন্তরের ইচ্ছা। আপনার মনের সংকল্প যদি সঠিক থাকে, তবে রোজা কবুল হবে ইনশাআল্লাহ।
শেষ কথা
রোজা ইসলামের পাঁচটি মূল স্তম্ভের একটি। তাই এর প্রতিটি বিধান সঠিকভাবে পালন করা আমাদের দায়িত্ব। আশা করি, রোজা রাখার নিয়ত বাংলা উচ্চারণ এবং আনুষঙ্গিক নিয়মকানুন সম্পর্কে এই আর্টিকেলটি আপনার জন্য সহায়ক হয়েছে। আপনার যদি ইসলাম ও রোজা সম্পর্কিত আরও কোনো প্রশ্ন থাকে, তবে নিচে কমেন্ট করে জানাতে পারেন।
I’m Md Parvez Hossen. I’m professional Blogger and SEO expert. I’m Living in USA.