বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম
সম্মানিত সভাপতি, শ্রদ্ধেয় শিক্ষকমণ্ডলী, এবং আমার প্রিয় সহপাঠী বন্ধুগণ
আসসালামু আলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহ।
আজকের এই মহতী আয়োজনে আপনাদের সামনে দাঁড়াতে পেরে আমি সত্যিই গভীরভাবে আপ্লুত। এই মুহূর্তে মনে হচ্ছে, সময় যেন পিছিয়ে গেছে এবং আমরা আবার একবার সেই চেনা উঠোনে, সেই পরিচিত করিডোরে ফিরে এসেছি।
প্রিয় বন্ধুগণ,
একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান শুধু ইট-পাথরের কাঠামো নয় এটি একটি জীবন্ত স্মৃতির ভাণ্ডার। এখানকার প্রতিটি শ্রেণিকক্ষ, প্রতিটি বারান্দা, এমনকি মাঠের প্রতিটি কোণে আমাদের শৈশব ও কৈশোরের অগণিত স্মৃতি লুকিয়ে আছে।
মনে পড়ে সেই প্রথম দিনের কথা যখন নতুন ব্যাগ কাঁধে, নতুন বইয়ের ঘ্রাণ নিয়ে এই প্রাঙ্গণে পা রেখেছিলাম। সেদিন একে অপরকে চিনতাম না, জানতাম না তবু ধীরে ধীরে গড়ে উঠেছিল এক অটুট বন্ধন। সেই বন্ধন আজও অক্ষুণ্ণ, আজও সজীব।
শ্রদ্ধেয় শিক্ষকমণ্ডলী,
আজ এই সুযোগে আমি বিশেষভাবে কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করতে চাই আমাদের শ্রদ্ধেয় শিক্ষকদের প্রতি। তাঁরা শুধু পাঠ্যপুস্তকের জ্ঞান দেননি তাঁরা আমাদের মানুষ হতে শিখিয়েছেন। তাঁদের অক্লান্ত পরিশ্রম, নিষ্ঠা এবং স্নেহের ঋণ কোনোদিন শোধ হওয়ার নয়। তাঁরাই আমাদের জীবনের প্রকৃত স্থপতি।
বন্ধুগণ,
আমরা আজ যে যার নিজ নিজ জীবনে প্রতিষ্ঠিত। কেউ চিকিৎসক, কেউ প্রকৌশলী, কেউ ব্যবসায়ী, কেউ সরকারি কর্মকর্তা কেউ বা দেশের সীমানা ছাড়িয়ে প্রবাসে কর্মরত। কিন্তু আজ এই মুহূর্তে আমরা সবাই এক আমরা এই প্রিয় প্রতিষ্ঠানের সন্তান।
জীবনের ব্যস্ততায় আমরা একে অপর থেকে দূরে সরে গিয়েছিলাম। কিন্তু আজকের এই পুনর্মিলনী প্রমাণ করে সত্যিকারের বন্ধুত্বে দূরত্ব কোনো বাধা নয়, সময়ের ব্যবধান কোনো বিচ্ছেদ নয়।
পরিশেষে,
আমি আশা রাখি এই পুনর্মিলনী কেবল একটি অনুষ্ঠানে সীমাবদ্ধ না থেকে, আমাদের মধ্যে এক নতুন সেতুবন্ধন তৈরি করবে। আমরা আবার কাছে আসব, একে অপরের সুখে-দুঃখে পাশে দাঁড়াব, এবং আমাদের এই প্রিয় প্রতিষ্ঠানের উন্নয়নে যার যার সাধ্যমতো অবদান রাখব।
আজকের এই স্মরণীয় মিলনক্ষণের আয়োজকদের প্রতি জানাই আন্তরিক ধন্যবাদ ও অভিনন্দন।
সকলের সুস্বাস্থ্য, দীর্ঘায়ু এবং সাফল্য কামনা করে আমার বক্তব্য এখানেই শেষ করছি।
আবারও সকলকে আন্তরিক শুভেচ্ছা।
ধন্যবাদ।