হিসাব সহকারী হলেন একজন সরকারি বা বেসরকারি অফিসে হিসাব শাখার গুরুত্বপূর্ণ কর্মী, যিনি মূলত অফিসের আর্থিক হিসাব-নিকাশ, বেতন-ভাতা প্রস্তুত, বিল-ভাউচার তৈরি, ক্যাশ বুক সংরক্ষণ, বাজেট ব্যবস্থাপনা এবং অডিটের কাজে সহায়তা করেন।
সহজ কথায়, হিসাব সহকারী হলেন অফিসের হিসাব শাখার মেরুদণ্ড। হিসাবরক্ষক না থাকলে পুরো হিসাব শাখার দায়িত্বই একজন হিসাব সহকারীকে সামলাতে হয়।
কেন এই পদ এত গুরুত্বপূর্ণ?
বাংলাদেশের সরকারি ও বেসরকারি অফিসে হিসাব সহকারী একটি অত্যন্ত চাহিদাসম্পন্ন পদ। প্রতিটি সরকারি দপ্তর, মন্ত্রণালয়, অধিদপ্তর এবং বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে এই পদে দক্ষ লোকের প্রয়োজন রয়েছে। এই পদে কাজ করলে আপনি অফিসের অর্থনৈতিক কার্যক্রমের কেন্দ্রে থাকবেন — যা আপনাকে মূল্যবান এবং অপরিহার্য করে তোলে।
অনেক চাকরিপ্রার্থী জানতে চান — হিসাব সহকারী পদে কী কী কাজ করতে হয়? বেতন কত? যোগ্যতা কী লাগে? পদোন্নতির সুযোগ আছে কিনা? এই আর্টিকেলে সেই সব প্রশ্নের বিস্তারিত ও নির্ভরযোগ্য উত্তর দেওয়া হয়েছে।
হিসাব সহকারী পদের বিস্তারিত কাজের তালিকা
হিসাব সহকারী পদে প্রধানত দুই ধরনের কাজ থাকে — আর্থিক কাজ এবং প্রশাসনিক সহায়তামূলক কাজ।
১. আর্থিক হিসাব সংক্রান্ত কাজ
হিসাব শাখার মূল কাজগুলো একজন হিসাব সহকারীকেই বেশিরভাগ সময় করতে হয়:
- ক্যাশ বুক সংরক্ষণ করা: প্রতিদিনের নগদ আয় ও ব্যয়ের হিসাব ক্যাশ বইতে লেখা এবং ব্যালেন্স মেলানো।
- বেতন-ভাতা প্রস্তুত করা: মাস শেষে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন বিল তৈরি করা, ইনক্রিমেন্ট হিসাব করা এবং বেতন শিট তৈরি করা।
- বিল ও ভাউচার তৈরি: ঠিকাদারি বিল, সরকারি ক্রয়ের বিল, অধিকাল ভাতার বিল এবং যাবতীয় আর্থিক ভাউচার তৈরি ও পরিশোধের ব্যবস্থা করা।
- চেক লেখা ও ব্যাংক লেনদেন: সরকারি পাওনা পরিশোধের জন্য চেক প্রস্তুত করা এবং ব্যাংকে চেক জমা ও টাকা উত্তোলনের কাজ করা।
- ভ্যাট ও আয়কর কর্তন: বিল পরিশোধের সময় সরকারি নিয়ম অনুযায়ী উৎসে কর (TDS) এবং ভ্যাট কর্তন করা এবং সরকারি কোষাগারে জমা দেওয়া।
- লেজার ও বিভিন্ন রেজিস্টার সংরক্ষণ: স্টক রেজিস্টার, লেজার বই এবং অন্যান্য আর্থিক রেজিস্টার নিয়মিত আপডেট রাখা।
- বরাদ্দ ও বাজেট ব্যবস্থাপনা: বার্ষিক বাজেটের হিসাব রাখা, বরাদ্দকৃত অর্থের ব্যয়-বিবরণী প্রস্তুত করা এবং বরাদ্দ যাতে অতিক্রম না হয় তা মনিটর করা।
২. অডিট ও নথি সংক্রান্ত কাজ
- অডিট ফেস করা: মহাহিসাব নিরীক্ষক ও নিয়ন্ত্রক (CAG) বা অভ্যন্তরীণ নিরীক্ষক দলের কাছে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র উপস্থাপন করা এবং অডিট আপত্তির জবাব তৈরিতে সহায়তা করা।
- গুরুত্বপূর্ণ আর্থিক ফাইল সংরক্ষণ: দরপত্র নথি, কার্যাদেশ, বিল-ভাউচার এবং আর্থিক চুক্তির ফাইল সুশৃঙ্খলভাবে সংরক্ষণ করা।
- দরপত্র ও ক্রয় প্রক্রিয়ায় সহায়তা: টেন্ডার শিডিউল তৈরি, দরপত্র মূল্যায়ন কমিটির কাগজপত্র প্রস্তুত এবং কার্যাদেশ তৈরিতে সহায়তা।
৩. কম্পিউটার ও ডিজিটাল কাজ
আধুনিক যুগে হিসাব সহকারীকে ডিজিটাল পদ্ধতিতেও কাজ করতে হয়:
- আইবাস++ সিস্টেমে কাজ করা: বাংলাদেশ সরকারের অনলাইন বাজেট ও হিসাব ব্যবস্থাপনা সফটওয়্যার আইবাস++-এ বেতন ও বিল প্রসেস করা।
- MS Excel-এ হিসাব তৈরি: বিভিন্ন আর্থিক বিবরণী ও রিপোর্ট Microsoft Excel-এ তৈরি করা।
- MS Word-এ পত্র ও নথি তৈরি: অফিসিয়াল চিঠিপত্র ও আর্থিক প্রতিবেদন টাইপিং ও সম্পাদনা করা।
হিসাব সহকারী পদের গ্রেড ও বেতন স্কেল
বাংলাদেশের সরকারি চাকরিতে হিসাব সহকারী পদ সাধারণত জাতীয় বেতন স্কেল ২০১৫ অনুযায়ী নিম্নরূপ:
| বিবরণ | তথ্য |
|---|---|
| গ্রেড | ১৬তম গ্রেড (কোনো কোনো প্রতিষ্ঠানে ১৪তম গ্রেড) |
| মূল বেতন স্কেল | ৯,৩০০–২২,৪৯০ টাকা (গ্রেড ১৬) |
| চাকরির শ্রেণি | তৃতীয় শ্রেণি |
| বেতনের সাথে প্রাপ্য ভাতা | বাড়ি ভাড়া ভাতা, চিকিৎসা ভাতা, টিফিন ভাতা, যাতায়াত ভাতা |
| উৎসব ভাতা | বছরে দুটি (দুই ঈদে মূল বেতনের সমপরিমাণ) |
| বাংলা নববর্ষ ভাতা | মূল বেতনের ২০% |
জানুন: কোনো কোনো প্রতিষ্ঠান যেমন BEPZA, বিভিন্ন স্বায়ত্তশাসিত সংস্থা বা কর্পোরেশনে হিসাব সহকারী বা সহকারী হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তা পদে বেতন স্কেল আরও বেশি হতে পারে।
হিসাব সহকারী পদে আবেদনের যোগ্যতা
সরকারি নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী হিসাব সহকারী পদে আবেদনের জন্য সাধারণত যা যা লাগে:
শিক্ষাগত যোগ্যতা:
- কোনো স্বীকৃত বোর্ড থেকে বাণিজ্য বিভাগে উচ্চ মাধ্যমিক সার্টিফিকেট (HSC) বা সমমানের পরীক্ষায় উত্তীর্ণ।
অন্যান্য যোগ্যতা:
- Microsoft Office (বিশেষত MS Word ও MS Excel) পরিচালনায় দক্ষতা।
- কম্পিউটারে বাংলা ও ইংরেজি টাইপিংয়ের দক্ষতা।
বয়সসীমা:
- সাধারণত ১৮ থেকে ৩০ বছর (মুক্তিযোদ্ধার সন্তান ও প্রতিবন্ধীদের জন্য বয়সসীমায় বিশেষ ছাড় প্রযোজ্য)।
টিপস: বাণিজ্যে স্নাতক (B.Com) ডিগ্রি থাকলে পদোন্নতির সুযোগ অনেক বেশি এবং দ্রুত পাবেন।
হিসাব সহকারী পদে পদোন্নতির সুযোগ কেমন?
এই পদে পদোন্নতির সুযোগ বেশ ভালো। সাধারণ পদোন্নতির ধাপগুলো এরকম:
ধাপ ১: হিসাব সহকারী → গ্রেড ১৬ (যোগদানের সময়)
ধাপ ২: উচ্চমান সহকারী → গ্রেড ১৪ (৫–৭ বছর চাকরির পর, দক্ষতা ও শূন্যপদ অনুযায়ী)
ধাপ ৩: হিসাবরক্ষক → গ্রেড ১১ (বাণিজ্যে স্নাতক ডিগ্রি থাকলে ৭ বছরের মধ্যে পদোন্নতি পাওয়া সম্ভব)
ধাপ ৪: প্রধান সহকারী বা উচ্চতর পদ → গ্রেড ১১ পেরিয়ে আরও উপরে যাওয়ার সুযোগ রয়েছে।
একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো: বাণিজ্যে স্নাতক ডিগ্রি থাকলে ৭ বছরেই হিসাবরক্ষক (গ্রেড ১১) পদে পদোন্নতি পাওয়া যায়। এটি চাকরির ক্ষেত্রে একটি বড় সুবিধা।
হিসাব সহকারী পদে কোন কোন প্রতিষ্ঠানে নিয়োগ হয়?
বাংলাদেশে হিসাব সহকারী পদে নিয়োগ দেয় এমন প্রতিষ্ঠান:
- বিভিন্ন সরকারি মন্ত্রণালয় ও বিভাগ
- গণযোগাযোগ অধিদপ্তর (MCD)
- কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তর (BTEB)
- সরকারি আবাসন পরিদপ্তর (DOGA)
- বাংলাদেশ রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ এলাকা কর্তৃপক্ষ (BEPZA)
- বাংলাদেশ কর্মচারী কল্যাণ বোর্ড (BKKB)
- কর কমিশনারের বিভিন্ন কার্যালয়
- জেলা ও উপজেলা হিসাবরক্ষণ অফিস
- বেসরকারি স্কুল, কলেজ ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান
- এনজিও ও বেসরকারি কর্পোরেট প্রতিষ্ঠান
হিসাব সহকারী বনাম অফিস সহকারী: পার্থক্য কী?
অনেকে এই দুটি পদ নিয়ে বিভ্রান্ত হন। চলুন পার্থক্য বোঝা যাক:
| বিষয় | হিসাব সহকারী | অফিস সহকারী কাম কম্পিউটার মুদ্রাক্ষরিক |
|---|---|---|
| মূল কাজ | হিসাব-নিকাশ, বিল-ভাউচার, ক্যাশ বুক | চিঠিপত্র টাইপিং, ডকুমেন্ট প্রস্তুত |
| শিক্ষাগত যোগ্যতা | বাণিজ্যে HSC | যেকোনো বিভাগে HSC |
| বিশেষ দক্ষতা | MS Excel, আর্থিক হিসাব | দ্রুত টাইপিং (বাংলা ও ইংরেজি ২০ শব্দ/মিনিট) |
| গ্রেড | ১৬ (কোথাও ১৪) | ১৬ |
| বেতন স্কেল | ৯,৩০০–২২,৪৯০ | ৯,৩০০–২২,৪৯০ |
| কাজের চাপ | বেশি (হিসাবরক্ষক না থাকলে) | তুলনামূলক কম |
হিসাব সহকারী হতে হলে কোন দক্ষতাগুলো জরুরি?
শুধু পরীক্ষায় পাস করলেই হবে না — হিসাব সহকারী হিসেবে ভালো করতে হলে এই দক্ষতাগুলো থাকা দরকার:
১. হিসাবশাস্ত্রের মৌলিক জ্ঞান ডেবিট-ক্রেডিট, জার্নাল, লেজার, ট্রায়াল ব্যালেন্স — এগুলো ভালোভাবে বোঝা জরুরি।
২. কম্পিউটার দক্ষতা MS Excel ও MS Word-এ দক্ষতা এখন অপরিহার্য। আইবাস++ সিস্টেমে কাজ করতে পারলে অতিরিক্ত সুবিধা।
৩. সততা ও দায়িত্ববোধ সরকারি অর্থের হিসাব রাখতে হয় বলে এই পদে সততা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ গুণ।
৪. বিস্তারিত মনোযোগ (Attention to Detail) হিসাবের ক্ষেত্রে ছোট ভুলও বড় সমস্যা তৈরি করে। তাই প্রতিটি হিসাব মনোযোগ দিয়ে যাচাই করার অভ্যাস থাকতে হবে।
৫. চাপ সামলানোর ক্ষমতা মাস শেষে বেতন বিল, বাজেট শেষে ব্যয় বিবরণী এবং অডিটের সময় একসাথে অনেক কাজ করতে হয়।
হিসাব সহকারী পদের নিয়োগ পরীক্ষায় কী কী পড়তে হবে?
হিসাব সহকারী পদে নিয়োগ পরীক্ষায় সাধারণত নিম্নলিখিত বিষয়গুলো থাকে:
লিখিত পরীক্ষা:
- বাংলা (ব্যাকরণ, রচনা, পত্র লেখা)
- ইংরেজি (Grammar, Composition)
- গণিত (পাটিগণিত, বীজগণিত)
- হিসাববিজ্ঞান (Accounting) — বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ
- সাধারণ জ্ঞান (বাংলাদেশ ও আন্তর্জাতিক বিষয়)
ব্যবহারিক পরীক্ষা:
- কম্পিউটার ব্যবহারিক (MS Word, MS Excel)
- টাইপিং পরীক্ষা (বাংলা ও ইংরেজি)
মৌখিক পরীক্ষা (ভাইভা):
- পদ সম্পর্কিত জ্ঞান ও সাধারণ প্রশ্ন
হিসাব সহকারী পদে চাকরির সুবিধা ও অসুবিধা
সুবিধাসমূহ:
- সরকারি চাকরির নিরাপত্তা ও স্থায়িত্ব
- নিয়মিত বেতন বৃদ্ধি এবং পদোন্নতির সুযোগ
- পেনশন, প্রভিডেন্ট ফান্ড ও অবসর সুবিধা
- অফিসে যথেষ্ট মূল্যায়ন ও গুরুত্ব পাওয়া যায়
- কর্মজীবনে বিভিন্ন অভিজ্ঞতা অর্জনের সুযোগ
চ্যালেঞ্জ ও অসুবিধা:
- হিসাবরক্ষক না থাকলে কাজের চাপ অনেক বেশি
- মাস শেষে ও অডিটের সময় অতিরিক্ত কাজ করতে হয়
- যেকোনো আর্থিক ভুলের জন্য জবাবদিহি করতে হয়
- প্রাথমিক বেতন তুলনামূলক কম (৯,৩০০ টাকা মূল বেতন)
সাধারণ প্রশ্নোত্তর
হিসাব সহকারী পদে কোন গ্রেডে চাকরি হয়?
সাধারণত জাতীয় বেতন স্কেল ২০১৫ অনুযায়ী ১৬তম গ্রেডে হিসাব সহকারী পদে নিয়োগ দেওয়া হয়। তবে কোনো কোনো স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানে এই পদ ১৪তম গ্রেডেও থাকতে পারে।
হিসাব সহকারী পদে কত টাকা বেতন পাওয়া যায়?
জাতীয় বেতন স্কেল ২০১৫ অনুযায়ী ১৬ গ্রেডে মূল বেতন স্কেল ৯,৩০০–২২,৪৯০ টাকা। এর সাথে বাড়ি ভাড়া ভাতা, চিকিৎসা ভাতা, টিফিন ভাতা, যাতায়াত ভাতা এবং উৎসব ভাতা যুক্ত হয়।
হিসাব সহকারী পদে আবেদনের যোগ্যতা কী?
কোনো স্বীকৃত বোর্ড থেকে বাণিজ্য বিভাগে উচ্চ মাধ্যমিক (HSC) পাস করতে হবে। এর পাশাপাশি MS Word ও MS Excel-এ দক্ষতা থাকা প্রয়োজন।
হিসাব সহকারী থেকে কত বছরে হিসাবরক্ষক হওয়া যায়?
বাণিজ্যে স্নাতক (B.Com) ডিগ্রি থাকলে ৭ বছরের মধ্যে হিসাবরক্ষক (গ্রেড ১১) পদে পদোন্নতি পাওয়ার সুযোগ থাকে।
হিসাব সহকারী ও অফিস সহকারীর কাজে কী পার্থক্য?
হিসাব সহকারী মূলত আর্থিক হিসাব-নিকাশের কাজ করেন (ক্যাশ বুক, বিল, বেতন শিট ইত্যাদি), আর অফিস সহকারী কাম কম্পিউটার মুদ্রাক্ষরিক মূলত চিঠিপত্র টাইপিং ও নথি প্রস্তুতের কাজ করেন।
হিসাব সহকারী পদের জন্য আইবাস++ জানা কি জরুরি?
সরকারি অফিসে যোগ দেওয়ার পরে আইবাস++ (iBAS++) সিস্টেম শেখা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এটি বাংলাদেশ সরকারের অনলাইন বাজেট ও হিসাব ব্যবস্থাপনা সিস্টেম, যেখানে বেতন ও বিল প্রসেস করা হয়।
হিসাব সহকারী পদে নারীরা কি আবেদন করতে পারবেন?
হ্যাঁ, এই পদে নারী ও পুরুষ উভয়ই আবেদন করতে পারেন। সরকারি নিয়োগে মহিলা কোটাও প্রযোজ্য।
হিসাব সহকারীর কাজে কি অডিটের মুখোমুখি হতে হয়?
হ্যাঁ। নিয়মিতভাবে অভ্যন্তরীণ ও বাহ্যিক অডিট হয়। হিসাব সহকারীকে অডিট টিমের কাছে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র উপস্থাপন করতে হয় এবং অডিট আপত্তির জবাব তৈরি করতে হয়।
হিসাব সহকারী পদে চাকরির প্রস্তুতি কিভাবে নেবেন?
ধাপ ১: শিক্ষাগত যোগ্যতা নিশ্চিত করুন বাণিজ্য বিভাগে HSC পাস করুন। সম্ভব হলে বাণিজ্যে স্নাতক (B.Com বা BBA) করুন — এটি পদোন্নতিতে অনেক সাহায্য করবে।
ধাপ ২: হিসাববিজ্ঞানের ভিত্তি মজবুত করুন একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণির হিসাববিজ্ঞান বই ভালোভাবে পড়ুন। ডেবিট-ক্রেডিট, জার্নাল, লেজার, ক্যাশ বই — এগুলো ভালোভাবে অনুশীলন করুন।
ধাপ ৩: কম্পিউটার দক্ষতা অর্জন করুন MS Excel ও MS Word শিখুন। বিশেষত Excel-এ সূত্র ব্যবহার করে হিসাব করার দক্ষতা অর্জন করুন।
ধাপ ৪: সাধারণ নিয়োগ পরীক্ষার প্রস্তুতি নিন বাংলা, ইংরেজি, গণিত ও সাধারণ জ্ঞানে ভালো দখল রাখুন। বিসিএস প্রিলিমিনারি স্তরের প্রশ্ন অনুশীলন করলে ভালো ফল পাবেন।
ধাপ ৫: নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি নিয়মিত অনুসরণ করুন বাংলাদেশ সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রণালয়, অধিদপ্তর ও স্বায়ত্তশাসিত সংস্থার নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি নিয়মিত দেখুন।
শেষকথা
হিসাব সহকারী পদটি তাদের জন্য আদর্শ যারা সংখ্যার সাথে কাজ করতে পছন্দ করেন, সরকারি চাকরির স্থিতিশীলতা চান এবং ক্যারিয়ারে ধীরে ধীরে উপরে উঠতে চান। এই পদে কাজ করলে আপনি অফিসের অপরিহার্য অংশ হয়ে উঠবেন — কারণ হিসাব ছাড়া কোনো অফিসই চলে না।
বাণিজ্য বিভাগ থেকে HSC পাস করা যে কেউ এই পদে আবেদন করতে পারেন। আর যদি বাণিজ্যে স্নাতক ডিগ্রি থাকে, তাহলে পদোন্নতির পথ আরও দ্রুত ও সুনিশ্চিত হয়।
তাই সিদ্ধান্ত নিন, প্রস্তুতি শুরু করুন — এবং আপনার সরকারি চাকরির স্বপ্ন পূরণ করুন।
তথ্যসূত্র ও যাচাইযোগ্য উৎস
- বাংলাদেশ সার্ভিস রুলস (bdservicerules.com)
- গণযোগাযোগ অধিদপ্তর নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি ২০২৫ (mcd.teletalk.com.bd)
- কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তর নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি ২০২৫
- জাতীয় বেতন স্কেল ২০১৫ — অর্থ মন্ত্রণালয়, গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার
- বাংলাদেশ রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ কর্তৃপক্ষ (BEPZA) নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি ২০২৫
- সরকারি আবাসন পরিদপ্তর (DOGA) নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি ২০২৫
I’m Md Parvez Hossen. I’m professional Blogger and SEO expert. I’m Living in USA.