ইফতারের দোয়া আরবি ও বাংলা: সঠিক উচ্চারণ, অর্থ ও সুন্নাহসম্মত নিয়ম

ইফতারের সময় পড়ার জন্য সবচেয়ে বিশুদ্ধ ও সুন্নাহসম্মত দোয়াটি হলো “যাহাবায যামাউ, ওয়াবতাল্লাতিল উরূকু, ওয়া ছাবাতাল আজরু ইনশাআল্লাহ।” (অর্থ: পিপাসা মিটেছে, শিরা-উপশিরা সিক্ত হয়েছে এবং আল্লাহ চাইলে সওয়াব নির্ধারিত হয়েছে)। হাদিস অনুযায়ী, এই দোয়াটি ইফতার করার পর পড়তে হয়। আর ইফতারের ঠিক আগে শুধুমাত্র “বিসমিল্লাহ” বলে ইফতার শুরু করাই হলো সঠিক সুন্নাহ।

পবিত্র রমজান মাসে রোজা পালনকারীদের জন্য ইফতারের মুহূর্তটি অত্যন্ত আনন্দ ও কবুলিয়াতের সময়। বাংলাদেশসহ সারা বিশ্বের মুসলিমরা ইফতারের সময় মহান আল্লাহর কাছে দোয়া করেন। তবে ইফতারের দোয়া নিয়ে আমাদের সমাজে কিছু বিভ্রান্তি রয়েছে। কোনটি সঠিক সুন্নাহ, কখন কোন দোয়াটি পড়তে হবে চলুন তা জেনে নিই।

ইফতারের বিশুদ্ধ দোয়া (আরবি, বাংলা উচ্চারণ ও অর্থ)

রাসুলুল্লাহ (সা.) ইফতার করার পর যে দোয়াটি পড়তেন, সেটি হাদিসের গ্রন্থগুলোতে স্পষ্টভাবে উল্লেখ আছে।

  • আরবি দোয়া: ذَهَبَ الظَّمَأُ وَابْتَلَّتِ الْعُرُوقُ، وَثَبَتَ الأَجْرُ إِنْ شَاءَ اللَّهُ
  • বাংলা উচ্চারণ: যাহাবায যামাউ, ওয়াবতাল্লাতিল উরূকু, ওয়া ছাবাতাল আজরু ইনশাআল্লাহ।
  • বাংলা অর্থ: “পিপাসা দূর হলো, শিরা-উপশিরা সিক্ত হলো এবং আল্লাহ চাইলে সওয়াব নির্ধারিত হলো।”
  • রেফারেন্স: (সুনানে আবু দাউদ, হাদিস: ২৩৫৭)

আমাদের দেশে প্রচলিত ইফতারের দোয়া

আমাদের দেশে ইফতারের আগে আরেকটি দোয়া পড়ার ব্যাপক প্রচলন রয়েছে। যদিও অনেক মুহাদ্দিস এটিকে দুর্বল (যয়িফ) বলেছেন, তবুও এর অর্থ চমৎকার হওয়ায় অনেকেই এটি পড়েন:

  • আরবি দোয়া: اللَّهُمَّ لَكَ صُمْتُ وَعَلَى رِزْقِكَ أَفْطَرْتُ
  • বাংলা উচ্চারণ: আল্লাহুম্মা লাকা সুমতু, ওয়া আলা রিযকিকা আফতারতু।
  • বাংলা অর্থ: “হে আল্লাহ! আমি আপনার জন্যই রোজা রেখেছি এবং আপনার দেওয়া রিজিক দিয়েই ইফতার করছি।”
  • রেফারেন্স: (সুনানে আবু দাউদ, হাদিস: ২৩৫৮)

ইফতারের সময় দোয়া পড়ার সঠিক নিয়ম

রোজা খোলার সময় আপনি কীভাবে সুন্নাহ অনুসরণ করবেন, তা নিচে পর্যায়ক্রমে দেওয়া হলো:

  1. দোয়া কবুলের সময় কাজে লাগান: ইফতারের ঠিক আগ মুহূর্তটি দোয়া কবুলের অন্যতম শ্রেষ্ঠ সময়। এ সময় নিজের, পরিবারের এবং দেশের মানুষের জন্য নিজের ভাষায় মন খুলে আল্লাহর কাছে দোয়া করুন।
  2. বিসমিল্লাহ বলা: আজান শোনার সাথে সাথে বা সময় হওয়ার সাথে সাথে শুধুমাত্র “বিসমিল্লাহ” (আল্লাহর নামে) বলে খেজুর বা পানি দিয়ে ইফতার শুরু করুন।
  3. বিশুদ্ধ দোয়াটি পড়া: কয়েকটি খেজুর বা পানি পান করে তৃষ্ণা মেটানোর পর উপরের বিশুদ্ধ দোয়াটি (যাহাবায যামাউ…) পাঠ করুন।

People Also Ask

১. ইফতারের দোয়া কখন পড়তে হয় আগে না পরে?

সঠিক সুন্নাহ অনুযায়ী ইফতারের বিশুদ্ধ দোয়াটি (যাহাবায যামাউ…) ইফতার গ্রহণ করার পর (অর্থাৎ পানি বা খেজুর মুখে দেওয়ার পর) পড়তে হয়। কারণ দোয়ার অর্থেই বলা হয়েছে “পিপাসা দূর হলো”।

২. ইফতারের আগে শুধু বিসমিল্লাহ পড়লেই কি হবে?

হ্যাঁ। রাসূল (সা.) যেকোনো খাবার গ্রহণের আগে ‘বিসমিল্লাহ’ বলতেন। তাই ইফতারের শুরুতে ‘বিসমিল্লাহ’ বলে রোজা ভাঙা সুন্নাহসম্মত।

৩. ইফতারের সময় হাত তুলে দোয়া করা কি জরুরি?

ইফতারের আগ মুহূর্তে রোজাদারের দোয়া আল্লাহ ফিরিয়ে দেন না। এ সময় হাত তুলে বা হাত না তুলেও মনে মনে আল্লাহর কাছে নিজের প্রয়োজনীয় সব কিছু চাওয়া যায়। এটি অত্যন্ত ফজিলতপূর্ণ একটি সময়।

৪. খেজুর না থাকলে কী দিয়ে ইফতার করা উত্তম?

রাসূল (সা.) তাজা বা শুকনো খেজুর দিয়ে ইফতার করতে পছন্দ করতেন। খেজুর না থাকলে সাধারণ পানি দিয়ে ইফতার করা উত্তম, কারণ পানি পবিত্র।

তথ্যসূত্র (Sources):

  • সুনানে আবু দাউদ (ইসলামিক ফাউন্ডেশন বাংলাদেশ কর্তৃক অনুদিত)।
  • সহিহুল জামে (শাইখ আলবানি)।

Leave a Comment