বিগত বছরগুলোর থেকে ভিন্নভাবে এ বছর মাধ্যমিক স্কুল সার্টিফিকেট (SSC) ও সমমান পরীক্ষায় বসতে যাওয়া শিক্ষার্থীদের জন্য জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড (NCTB) নতুন বিষয়ভিত্তিক নম্বর বিভাজন প্রকাশ করেছে। এই নতুন কাঠামো অনুযায়ী পরীক্ষার প্রশ্নপত্রের ধরন এবং নম্বরের বণ্টনে বেশ কিছু পরিবর্তন আনা হয়েছে যা ২০২৬ সালের পরীক্ষা থেকে কার্যকর হবে।
২০২৬ সালের এসএসসি পরীক্ষার নম্বর বিভাজন কি পরিবর্তিত হয়েছে?
হ্যাঁ, ২০২৬ সালের এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার নম্বর বিভাজনে বড় পরিবর্তন আনা হয়েছে। এখন থেকে আবশ্যিক বিষয়গুলোতে সৃজনশীল ও বহুনির্বাচনির পাশাপাশি অনেক বিষয়ে ‘সংক্ষিপ্ত-উত্তর প্রশ্ন’ (Short Answer) যুক্ত করা হয়েছে। বিজ্ঞান বিভাগের বিষয়গুলোতে তত্ত্বীয় অংশ ৭৫ নম্বর এবং ব্যবহারিক অংশ ২৫ নম্বরে বিন্যস্ত করা হয়েছে। প্রতিটি বিষয়ের সৃজনশীল, বহুনির্বাচনি ও ব্যবহারিক অংশে আলাদাভাবে পাস করতে হবে।
আবশ্যিক বিষয়সমূহের বিস্তারিত নম্বর বিভাজন
বাংলা, ইংরেজি ও গণিতের মতো আবশ্যিক বিষয়গুলোর নম্বর বণ্টন নিচে দেওয়া হলো:
১. বাংলা (১ম ও ২য় পত্র)
- বাংলা ১ম পত্র (১০০ নম্বর): সৃজনশীল প্রশ্নের জন্য ৫০ নম্বর (৮টি থেকে ৫টি উত্তর), সহপাঠ বা বর্ণনামূলক প্রশ্নের জন্য ২০ নম্বর (৪টি থেকে ২টির উত্তর) এবং বহুনির্বাচনি (MCQ) প্রশ্নের জন্য ৩০ নম্বর বরাদ্দ রাখা হয়েছে।
- বাংলা ২য় পত্র (১০০ নম্বর): রচনামূলক অংশের জন্য ৭০ নম্বর এবং বহুনির্বাচনি অংশের জন্য ৩০ নম্বর রয়েছে। রচনামূলক অংশে অনুচ্ছেদ (১০), চিঠিপত্র (১০), সারমর্ম (১০), ভাবসম্প্রসারণ (১০), অনুবাদ (১০) এবং প্রবন্ধ রচনার (২০) জন্য নম্বর নির্ধারণ করা হয়েছে।
২. ইংরেজি (১st & 2nd Paper)
- ইংরেজি ১ম পত্র (১০০ নম্বর): রিডিং পার্টে ৭০ নম্বর (MCQ, প্রশ্নের উত্তর, শূন্যস্থান পূরণ, ম্যাচিং এবং রি-অ্যারেঞ্জিং) এবং রাইটিং পার্টে ৩০ নম্বর (প্যারাগ্রাফ, স্টোরি রাইটিং ও ডায়ালগ) বরাদ্দ করা হয়েছে।
- ইংরেজি ২য় পত্র (১০০ নম্বর): গ্রামার অংশে ৬০ নম্বর এবং রাইটিং অংশে ৪০ নম্বর (প্যারাগ্রাফ, ই-মেইল/চিঠি ও কম্পোজিশন) রয়েছে।
৩. গণিত (১০০ নম্বর)
গণিতে সৃজনশীল প্রশ্নের জন্য ৫০ নম্বর (৮টি থেকে ৫টি), সংক্ষিপ্ত-উত্তর প্রশ্নের জন্য ২০ নম্বর (১৫টি থেকে ১০টি) এবং বহুনির্বাচনি প্রশ্নের জন্য ৩০ নম্বর বরাদ্দ আছে।
বিভাগীয় ও ব্যবহারিক বিষয়ের নম্বর বণ্টন
বিজ্ঞান, ব্যবসায় শিক্ষা ও মানবিক বিভাগের বিষয়গুলোর ক্ষেত্রে আলাদা কাঠামো অনুসরণ করা হয়েছে:
বিজ্ঞান ও ব্যবহারিক যুক্ত বিষয় (পদার্থ, রসায়ন, জীববিজ্ঞান, উচ্চতর গণিত)
এই বিষয়গুলোর পূর্ণমান ১০০ হলেও তা তত্ত্বীয় এবং ব্যবহারিক অংশে বিভক্ত:
- তত্ত্বীয় অংশ (৭৫ নম্বর): সৃজনশীল ৪০ নম্বর (৭টি থেকে ৪টি), সংক্ষিপ্ত-উত্তর ১০ নম্বর (৭টি থেকে ৫টি) এবং বহুনির্বাচনি ২৫ নম্বর।
- ব্যবহারিক অংশ (২৫ নম্বর): পরীক্ষণ ১৫ নম্বর, ফলাফল উপস্থাপন ৫ নম্বর এবং মৌখিক অভীক্ষা ৫ নম্বর।
ব্যবসায় শিক্ষা ও মানবিক বিভাগ (বিজ্ঞান, বিজিএস, ধর্ম, ফিন্যান্স)
এই বিষয়গুলোতে সৃজনশীল প্রশ্নের জন্য ৫০ নম্বর (৮টি থেকে ৫টি), সংক্ষিপ্ত-উত্তর প্রশ্নের জন্য ২০ নম্বর (১৫টি থেকে ১০টি) এবং বহুনির্বাচনি প্রশ্নের জন্য ৩০ নম্বর বরাদ্দ রাখা হয়েছে। তবে হিসাববিজ্ঞানে আর্থিক বিবরণী প্রস্তুতকরণের জন্য ২০ নম্বর বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।
আইসিটি (ICT) ও শারীরিক শিক্ষা
- আইসিটি (৫০ নম্বর): তত্ত্বীয় ২৫ নম্বর (MCQ ১৫ এবং সংক্ষিপ্ত উত্তর ১০) এবং ব্যবহারিক ২৫ নম্বর ।
- শারীরিক শিক্ষা ও ক্যারিয়ার শিক্ষা (৫০ নম্বর): এগুলো ধারাবাহিক মূল্যায়ন ও ব্যবহারিক প্রজেক্টের মাধ্যমে নম্বর প্রদান করা হয়।
২০২৬ সালের পরীক্ষার্থীদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ নিয়মাবলি
গবেষণা ও শিক্ষা বোর্ডের তথ্য অনুযায়ী পরীক্ষার্থীদের অবশ্যই নিচের বিষয়গুলো খেয়াল রাখতে হবে:
- পৃথক পাস: সৃজনশীল/রচনামূলক, বহুনির্বাচনি ও ব্যবহারিক এই তিনটি অংশে আলাদাভাবে পাস করা বাধ্যতামূলক।
- সিলেবাস: ২০২৫ শিক্ষাবর্ষের জন্য নির্ধারিত পুনর্বিন্যাসকৃত পাঠ্যসূচি থেকেই ২০২৬ সালের প্রশ্নপত্র প্রণয়ন করা হবে।
- ওএমআর (OMR) পূরণ: উত্তরপত্রের ওএমআর ফরমে রোল, রেজিস্ট্রেশন ও বিষয় কোড সঠিকভাবে লিখে বৃত্ত ভরাট করতে হবে এবং উত্তরপত্র ভাঁজ করা যাবে না।
- সময় ও আসন: পরীক্ষা শুরুর ৩০ মিনিট আগে কেন্দ্রে আসন গ্রহণ করতে হবে।
শেষকথা
২০২৬ সালের এসএসসি পরীক্ষার এই নতুন নম্বর বিভাজন শিক্ষার্থীদের সৃজনশীল মেধা যাচাইয়ের পাশাপাশি তাত্ত্বিক গভীরতাও পরীক্ষা করবে। বিশেষ করে সংক্ষিপ্ত উত্তর প্রশ্ন ও নতুন ব্যবহারিক কাঠামো শিক্ষার্থীদের প্রস্তুতির ধরনে পরিবর্তন আনবে। সঠিক নম্বর বিভাজন জেনে প্রস্তুতি নিলে পরীক্ষায় কাঙ্ক্ষিত ফলাফল অর্জন সহজ হবে।
সোর্স: জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড (NCTB) এবং মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড।