ঢাকা ৬ আসন কোন এলাকা নিয়ে গঠিত?

ঢাকা ৬ আসন (জাতীয় সংসদের ১৭৯ নং আসন) মূলত পুরান ঢাকার ঐতিহ্যবাহী ও ব্যবসায়িক প্রাণকেন্দ্রগুলো নিয়ে গঠিত। সহজ কথায়, সূত্রাপুর, ওয়ারী, গেন্ডারিয়া এবং কোতোয়ালি থানার (আংশিক) এলাকা নিয়ে ঢাকা-৬ আসন গঠিত। প্রশাসনিকভাবে এটি ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের (DSCC) ৩৪ নম্বর ওয়ার্ড এবং ৩৭ থেকে ৪৬ নম্বর ওয়ার্ড পর্যন্ত মোট ১১টি ওয়ার্ডের সমন্বয়ে গঠিত।

এক নজরে ঢাকা-৬ আসনের তথ্য

বিবরণতথ্য
আসন নম্বর১৭৯ (ঢাকা-৬)
সিটি কর্পোরেশনঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন (DSCC)
অন্তর্ভুক্ত থানাসূত্রাপুর, ওয়ারী, গেন্ডারিয়া, কোতোয়ালি (আংশিক)
ওয়ার্ড নম্বর৩৪, ৩৭, ৩৮, ৩৯, ৪০, ৪১, ৪২, ৪৩, ৪৪, ৪৫, ৪৬
মোট ভোটারপ্রায় ২,৮১,৫১৫ জন (২০২৪ নির্বাচন অনুযায়ী)
ভৌগোলিক অবস্থানপুরান ঢাকার হৃৎপিণ্ড

ঢাকা ৬ আসনের বিস্তারিত সীমানা ও এলাকা পরিচিতি

ঢাকা-৬ আসনটি ভৌগোলিক ও রাজনৈতিকভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। পুরান ঢাকার ইতিহাস, ঐতিহ্য এবং বাংলাদেশের প্রধান কিছু ব্যবসায়িক এলাকা এই আসনের অন্তর্ভুক্ত। নিচে থানা ও ওয়ার্ডভিত্তিক বিস্তারিত আলোচনা করা হলো:

১. অন্তর্ভুক্ত থানাসমূহ

নির্বাচন কমিশনের সর্বশেষ গেজেট ও সীমানা পুনর্নির্ধারণ অনুযায়ী, এই আসনটি নিচের থানাগুলো নিয়ে গঠিত:

  • সূত্রাপুর থানা: পুরোটাই এই আসনের অন্তর্ভুক্ত।
  • ওয়ারী থানা: ওয়ারীর অভিজাত আবাসিক ও বাণিজ্যিক এলাকা।
  • গেন্ডারিয়া থানা: ধুপখোলা মাঠ ও তার আশেপাশের এলাকা।
  • কোতোয়ালি থানা (আংশিক): বাবুবাজার ও এর সংলগ্ন কিছু অংশ।

২. ওয়ার্ডভিত্তিক এলাকা বিভাজন

ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের নির্দিষ্ট কিছু ওয়ার্ড এই আসনের মূল কাঠামো তৈরি করেছে। ওয়ার্ডগুলো হলো:

  • ওয়ার্ড ৩৪: সিদ্দিক বাজার ও ফুলবাড়িয়া সংলগ্ন এলাকা।
  • ওয়ার্ড ৩৭: সদরঘাট, বাংলাবাজার ও পাটুয়াটুলী এলাকা।
  • ওয়ার্ড ৩৮: কাপ্তান বাজার, নবাবপুর রোড ও সংলগ্ন এলাকা।
  • ওয়ার্ড ৩৯: ওয়ারী ও অভয়দাস লেন এলাকা।
  • ওয়ার্ড ৪০: স্বামীবাগ ও দয়াগঞ্জ এলাকা।
  • ওয়ার্ড ৪১: ওয়ারী ও বনগ্রাম এলাকা।
  • ওয়ার্ড ৪২: লক্ষ্মীবাজার ও সূত্রাপুর এলাকা।
  • ওয়ার্ড ৪৩: ফরাশগঞ্জ, শ্যামবাজার ও রূপলাল হাউজ এলাকা।
  • ওয়ার্ড ৪৪: সূত্রাপুর ও ঋষিকেশ দাস রোড।
  • ওয়ার্ড ৪৫: গেন্ডারিয়া ও ডিস্টিলারি রোড।
  • ওয়ার্ড ৪৬: গেন্ডারিয়া, মিলব্যারাক ও ধুপখোলা এলাকা।

বিশেষ দ্রষ্টব্য: সীমানা পুনর্নির্ধারণের সময় অনেক ক্ষেত্রে রাস্তার একপাশ এক আসনে এবং অন্যপাশ ভিন্ন আসনে পড়তে পারে। তবে ওয়ার্ড নম্বরগুলো সাধারণত নির্দিষ্ট থাকে।

ম্যাপ ও চতুর্দিক (Boundaries)

সহজে চেনার জন্য ঢাকা-৬ আসনের চতুর্দিক সীমানা নিচে দেওয়া হলো:

  • উত্তরে: ফুলবাড়িয়া ও মতিঝিল এলাকা।
  • দক্ষিণে: বুড়িগঙ্গা নদী ও নাজিরাবাজার।
  • পূর্বে: গেন্ডারিয়া রেল স্টেশন ও যাত্রাবাড়ী সীমানা।
  • পশ্চিমে: সিদ্দিক বাজার ও বংশাল এলাকা।

কেন এই আসনটি গুরুত্বপূর্ণ?

ঢাকা-৬ আসনকে বলা হয় “পুরান ঢাকার গেটওয়ে”। রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক কারণে এটি অত্যন্ত সংবেদনশীল।

  1. ব্যবসায়িক হাব: দেশের বৃহত্তম পাইকারি বাজারগুলোর অন্যতম নবাবপুর ও কাপ্তান বাজার এখানে অবস্থিত।
  2. ঐতিহ্য: আহসান মঞ্জিল (কাছাকাছি), রোজ গার্ডেন এবং বলধা গার্ডেনের মতো ঐতিহাসিক স্থাপনাগুলো এই এলাকার সাথে সম্পৃক্ত।
  3. ঘনবসতি: এটি ঢাকার সবচেয়ে ঘনবসতিপূর্ণ এলাকাগুলোর একটি।

শেষ কথা

আশা করি, ঢাকা ৬ আসন কোন এলাকা নিয়ে গঠিত এই প্রশ্নের উত্তর আপনি পরিষ্কারভাবে পেয়েছেন। আপনি যদি পুরান ঢাকার ভোটার হন বা এই এলাকার প্রশাসনিক সীমানা সম্পর্কে জানতে চান, তবে মনে রাখবেন সূত্রাপুর, ওয়ারী ও গেন্ডারিয়া নিয়েই আপনার সংসদীয় আসন ১৭৯।

তথ্যসূত্র: বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশন গেজেট (২০২৪), ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন ও উইকিপিডিয়া।

Leave a Comment