মাদ্রাসার বিদায় অনুষ্ঠানের বক্তব্য

بِسْمِ اللهِ الرَّحْمٰنِ الرَّحِيْمِ اَلْحَمْدُ لِلّٰهِ وَالصَّلٰوةُ وَالسَّلَامُ عَلٰى رَسُوْلِ اللهِ

আসসালামু আলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহু।

সম্মানিত সভাপতি, শ্রদ্ধেয় মুহতামিম/অধ্যক্ষ সাহেব, মুকাররাম উস্তাযগণ, মুহতারাম অভিভাবকবৃন্দ, প্রিয় সহপাঠী ও ছোট ভাই-বোনেরা এবং আজকের এই বিদায় মজলিসে উপস্থিত সকলকে

আজকের এই মজলিসে কথা বলতে উঠে বুকের ভেতরে এক অদ্ভুত অনুভূতি হচ্ছে। কান্না আসছে, আবার মনে হচ্ছে আলহামদুলিল্লাহ, আল্লাহ পাক কত বড় নেয়ামত দিয়েছেন আমাদের। এই পবিত্র দ্বীনি প্রতিষ্ঠানে পড়ার সুযোগ কি সবার নসিবে হয়?

এই মাদ্রাসার সাথে আমাদের সম্পর্ক

এই মাদ্রাসার মাটিতে আমাদের প্রথম পা পড়েছিল যেদিন সেদিনের কথা কি ভুলতে পারব কোনোদিন? ছোট্ট বুকে কতটুকু বুঝতাম তখন! কিন্তু এই পবিত্র পরিবেশ, এই আযানের সুর, এই কুরআনের তেলাওয়াত ধীরে ধীরে আমাদের মনে এবং আত্মায় গেঁথে গেছে।

প্রতিদিন ফজরের নামাযের পর কিতাব খোলা, উস্তাযের সামনে বসে দরস শোনা, রাতের নিস্তব্ধতায় মুতালাআ করা এই রুটিন আমাদের জীবনের অংশ হয়ে গিয়েছিল। আজ এই রুটিন বদলে যাবে ভাবলে মনটা কেমন হয়ে যায়।

এই মাদ্রাসার প্রতিটি কামরায়, প্রতিটি দালানে আমাদের স্মৃতি জমা আছে। জামাতে নামায পড়া, ইফতারের দস্তরখানে একসাথে বসা, পরীক্ষার আগে রাত জেগে পড়া প্রতিটি মুহূর্ত আমাদের জীবনের অমূল্য সম্পদ।

শ্রদ্ধেয় উস্তাযদের প্রতি কৃতজ্ঞতা

আমাদের মুকাররাম উস্তাযগণ আপনাদের ঋণ কোনোদিন শোধ হওয়ার নয়।

আপনারা শুধু কিতাব পড়াননি ইলমের সাথে আমলের তালিম দিয়েছেন। শুধু পাঠ দেননি আদর্শ জীবন গড়ার পথ দেখিয়েছেন। আপনাদের প্রতিটি নসিহত, প্রতিটি দোয়া, প্রতিটি সংশোধনের চেষ্টা এগুলো আমাদের দুনিয়া ও আখেরাতের পাথেয়।

হাদিস শরিফে আছে — “العلماء ورثة الأنبياء” আলেমগণ নবীদের ওয়ারিস। আপনারা সেই মহান উত্তরাধিকারের বাহক। আপনাদের হাত ধরে আমরা দ্বীনের আলোর সন্ধান পেয়েছি।

আপনাদের কাছে একটাই দোয়া চাই আমাদের জন্য আল্লাহর দরবারে হাত তুলুন, যেন আমরা যা শিখেছি তা জীবনে কাজে লাগাতে পারি।

সহপাঠী বন্ধুদের প্রতি

প্রিয় সহপাঠীরা, আজ আমাদের পথ হয়তো আলাদা হবে। কেউ যাবে উচ্চতর দ্বীনি শিক্ষায়, কেউ যাবে সাধারণ শিক্ষায়, কেউ হয়তো সরাসরি দ্বীনের খেদমতে লেগে যাবে।

কিন্তু আমাদের এই ভ্রাতৃত্বের বন্ধন এই উখুওয়াতের সম্পর্ক কোনোদিন যেন না ছেটে। আল্লাহ পাক বলেছেন —

“إِنَّمَا الْمُؤْمِنُونَ إِخْوَةٌ”

মুমিনরা তো পরস্পর ভাই ভাই। এই ভ্রাতৃত্বকে আঁকড়ে ধরো।

একে অপরের জন্য দোয়া করো, বিপদে পাশে থেকো। জীবনের পথে যখন ক্লান্ত হবে এই বন্ধুত্বই হবে তোমার শক্তি।

ছোট ভাইদের প্রতি

প্রিয় ছোট ভাইয়েরা, এখন থেকে এই মাদ্রাসার দায়িত্ব তোমাদের কাঁধে। উস্তাযদের খেদমত করো, কিতাবের প্রতি মনোযোগী হও, আদব-আখলাক ঠিক রাখো।

মনে রেখো এই মাদ্রাসায় পড়ার সুযোগ আল্লাহর বিশেষ নেয়ামত। এই নেয়ামতের শুকর আদায় করো ইলম অর্জন করে, আমল করে।

নিজেদের প্রতি অঙ্গীকার

আজ আমরা এই পবিত্র মজলিসে দাঁড়িয়ে অঙ্গীকার করছি

যে ইলম অর্জন করেছি তা আমল করব। যে আদব শিখেছি তা জীবনে ধারণ করব। দ্বীনের প্রচার ও প্রসারে নিজেদের নিয়োজিত রাখব। এই মাদ্রাসার নাম ও সুনাম যেন কোনোদিন ক্ষুণ্ণ না হয় সেই চেষ্টা করব।

“اَللّٰهُمَّ انْفَعْنَا بِمَا عَلَّمْتَنَا وَعَلِّمْنَا مَا يَنْفَعُنَا”

হে আল্লাহ! আমাদের যা শিখিয়েছ তা দিয়ে আমাদের উপকৃত করো এবং যা উপকারী তা আমাদের শেখাও।

আয়োজকদের প্রতি শুকরিয়া

আজকের এই বিদায় মজলিসের আয়োজন যারা করেছেন তাদের সকলকে জাযাকাল্লাহু খাইরান। এই অনুষ্ঠান আমাদের জীবনের একটি স্মরণীয় অধ্যায় হয়ে থাকবে।

শেষকথা

প্রিয় মাদ্রাসা, তোমাকে বিদায় জানাচ্ছি কিন্তু তোমার শিক্ষা, তোমার আদর্শ, তোমার দোয়া আমাদের সাথে থাকবে কিয়ামত পর্যন্ত।

আল্লাহ রাব্বুল আলামিনের দরবারে দোয়া করি তিনি যেন আমাদের ইলমকে নাফে করেন, আমাদের আমলকে কবুল করেন, আমাদের উস্তাযদের নেক হায়াত দান করেন এবং এই মাদ্রাসাকে কিয়ামত পর্যন্ত দ্বীনের আলো ছড়িয়ে যাওয়ার তৌফিক দেন।

আমিন। ছুম্মা আমিন।

ওয়াস্সালামু আলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহু।

Leave a Comment