ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিষিদ্ধ হওয়ার পরও ভোটে আ.লীগ নেতারা

২০২৫ সালের মে মাসে অন্তর্বর্তী সরকার বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধ ঘোষণা করে। দলটির শীর্ষ নেতৃত্ব আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি নির্বাচন বয়কটের ডাক দিয়েছে। কিন্তু রাজনীতির মাঠে দেখা যাচ্ছে ভিন্ন চিত্র। দল নেই, প্রতীক নেই তবুও আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে লড়ছেন একাধিক আওয়ামী লীগ নেতা।

নিষিদ্ধ দলের নেতারা কীভাবে নির্বাচন করছেন? আর এই নির্বাচনে ‘আওয়ামী ভোটব্যাংক’ কি জয়-পরাজয়ের চাবিকাঠি হতে যাচ্ছে? চলুন, বিস্তারিত জেনে নেওয়া যাক।

নির্বাচনের মাঠে আওয়ামী লীগ

  • দলের অবস্থান: কার্যক্রম নিষিদ্ধ ও নির্বাচন বয়কট।
  • মাঠে যারা: যুবলীগ ও স্বেচ্ছাসেবক লীগের কেন্দ্রীয় নেতারা স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে লড়ছেন।
  • আলোচিত আসন: নরসিংদী-৫, গোপালগঞ্জ-২ ও টাঙ্গাইল-৪।
  • ভোটার ফ্যাক্টর: বিএনপি-জামায়াতসহ অন্য প্রার্থীরা আওয়ামী লীগের ভোট টানতে কৌশল নিচ্ছেন।

দল নিষিদ্ধ, তবু প্রার্থী কারা?

কেন্দ্র থেকে বয়কটের ঘোষণা থাকলেও তৃণমূল ও মধ্যম সারির নেতাদের কেউ কেউ স্বতন্ত্রভাবে নির্বাচনের মাঠে নেমেছেন। যমুনা টিভির প্রতিবেদন অনুযায়ী, যারা নির্বাচনে টিকে আছেন:

ব্যারিস্টার তৌফিকুর রহমান (নরসিংদী-৫)

যুবলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির এই সদস্য এবার স্বতন্ত্র প্রার্থী। মজার বিষয় হলো, গত দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনে তিনি দলীয় মনোনয়ন চেয়েও পাননি, কিন্তু এবার দল যখন নিষিদ্ধ, তখন তিনি নির্বাচনী লড়াইয়ে।

কামরুজ্জামান ভূঁইয়া (গোপালগঞ্জ-২)

আওয়ামী লীগের শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত গোপালগঞ্জে লড়ছেন কেন্দ্রীয় স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতা কামরুজ্জামান ভূঁইয়া।

আব্দুল লতিফ সিদ্দিকী (টাঙ্গাইল-৪)

আওয়ামী লীগের একসময়ের প্রভাবশালী এই সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য দল থেকে বহিষ্কৃত হয়েছিলেন আগেই। তিনি অন্য কোনো দলে যোগ দেননি, এবারও নিজের পুরনো আসন টাঙ্গাইল-৪ থেকে স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়েছেন।

(নোট: সাতক্ষীরা-১ আসনে এস এম মুজিবুর রহমান এবং রাজশাহী-৩ আসনে হাবিবা বেগমের মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাইয়ে বাতিল হয়েছে।)

কেন তারা নির্বাচনে?

বিশ্লেষকদের মতে, দল নিষিদ্ধ হলেও নেতাদের ব্যক্তিগত প্রভাব এবং স্থানীয় রাজনীতিতে টিকে থাকার তাগিদ থেকেই তারা নির্বাচনে অংশ নিচ্ছেন। শীর্ষ নেতারা আত্মগোপনে বা বিদেশে থাকলেও, স্থানীয় পর্যায়ের এই নেতারা মনে করছেন মাঠ ফাঁকা রাখা ঠিক হবে না।

সাইলেন্ট ভোটার

এই নির্বাচনের সবচেয়ে বড় রহস্য হলো ‘আওয়ামী ভোটার’। দল নির্বাচনে নেই, কিন্তু তাদের বিশাল সমর্থক গোষ্ঠী এখনো বর্তমান।

  • ভোটের কদর: স্থানীয়ভাবে বিএনপি, জামায়াত বা অন্যান্য স্বতন্ত্র প্রার্থীরা জানছেন যে, আওয়ামী লীগের ভোটব্যাংক যেদিকে ঝুঁকবে, পাল্লা সেদিকেই ভারী হবে। তাই গোপনে বা প্রকাশ্যে এই ভোটারদের টানতে নানা প্রতিশ্রুতি দেওয়া হচ্ছে।
  • ভোট কেন্দ্রে উপস্থিতি: তবে বড় প্রশ্ন হলো—দলীয় প্রতীক ছাড়া এবং বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে এই ভোটাররা আদৌ কেন্দ্রে গিয়ে ভোট দেবেন কিনা।

বিশ্লেষকদের মত: “অনেক আসনে আওয়ামী লীগের ভোটাররাই হবেন ‘ডিসাইডিং ফ্যাক্টর’ (Deciding Factor)। প্রার্থীরা তাদের আশ্বস্ত করতে পারলে ভোটের সমীকরণ উল্টে যেতে পারে।”

সচরাচর জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন

প্রশ্ন: আওয়ামী লীগ কি এই নির্বাচনে অংশ নিচ্ছে?

উত্তর: না। দল হিসেবে আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধ এবং শীর্ষ নেতৃত্ব নির্বাচন বয়কট করেছে। তবে কতিপয় নেতা ব্যক্তিগত উদ্যোগে স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়েছেন।

প্রশ্ন: নিষিদ্ধ দলের নেতারা কীভাবে প্রার্থী হন?

উত্তর: বাংলাদেশের আইনে কোনো ব্যক্তি যদি দণ্ডপ্রাপ্ত বা ঋণখেলাপি না হন, তবে তিনি স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করতে পারেন। এখানে তারা দলের পরিচয়ে নয়, বরং স্বতন্ত্র ব্যক্তি হিসেবে অংশ নিচ্ছেন।

প্রশ্ন: নির্বাচন কবে অনুষ্ঠিত হবে?

উত্তর: নির্বাচন কমিশনের তফসিল অনুযায়ী ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে।

শেষ কথা

২০২৬-এর নির্বাচন বাংলাদেশের রাজনীতির ইতিহাসে একটি ব্যতিক্রমী ঘটনা হতে যাচ্ছে। একদিকে প্রধান একটি দলের অনুপস্থিতি, অন্যদিকে সেই দলের নেতাদের স্বতন্ত্র লড়াই এবং নীরব ভোটারদের ভূমিকা—সব মিলিয়ে ভোটের ফলাফল কোন দিকে যায়, সেটাই এখন দেখার বিষয়।

Disclaimer: এই আর্টিকেলের তথ্য ১৯ জানুয়ারি ২০২৬-এ যমুনা টেলিভিশনে প্রচারিত প্রতিবেদনের ওপর ভিত্তি করে তৈরি।

উৎস: যমুনা টেলিভিশন ও নির্বাচন কমিশন

Leave a Comment