ঢাকা ১৮ আসন মূলত রাজধানীর উত্তরা ও এর আশেপাশের এলাকা নিয়ে গঠিত একটি ভিআইপি নির্বাচনী এলাকা। জাতীয় সংসদের ১৯১ নং এই আসনটি উত্তরা (পূর্ব ও পশ্চিম), তুরাগ, বিমানবন্দর, খিলক্ষেত, উত্তরখান এবং দক্ষিণখান থানা নিয়ে গঠিত। ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের (DNCC) ১, ১৭ এবং ৪৩ থেকে ৫৪ নম্বর ওয়ার্ডগুলো এই আসনের অন্তর্ভুক্ত। অর্থাৎ, হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে শুরু করে দিয়াবাড়ি ও উত্তরার সম্পূর্ণ অংশ এই আসনের সীমানায় পড়ে।
ঢাকার প্রবেশদ্বার খ্যাত এই আসনটি কেন গুরুত্বপূর্ণ?
বাংলাদেশের জাতীয় রাজনীতিতে ঢাকা-১৮ আসনটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ, এটি ঢাকার প্রধান প্রবেশপথ। আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর, উত্তরা মডেল টাউন এবং মেট্রোরেলের মতো গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলো এই এলাকাতেই অবস্থিত।
আপনি যদি এই এলাকার বাসিন্দা হন বা ভোটার হন, তবে আপনার নির্বাচনী সীমানা বা ওয়ার্ড নম্বর জানা থাকা জরুরি। এই আর্টিকেলে আমরা ম্যাপ এবং তালিকা সহ বিস্তারিত জানাব ঢাকা ১৮ আসন কোন কোন এলাকা নিয়ে গঠিত এবং এর সীমানা কতটুকু।
ঢাকা ১৮ আসনের আওতাধীন থানাসমূহ
বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশনের গেজেট অনুযায়ী, এই আসনটি ঢাকা মেট্রোপলিটনের মোট ৭টি (মূল ও বিভাজিত) থানা নিয়ে গঠিত। এগুলো হলো:
- উত্তরা পূর্ব থানা
- উত্তরা পশ্চিম থানা
- তুরাগ থানা
- বিমানবন্দর থানা (হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর এলাকা)
- খিলক্ষেত থানা (নিকুঞ্জ ও আশেপাশের এলাকা)
- উত্তরখান থানা
- দক্ষিণখান থানা
সিটি কর্পোরেশন ওয়ার্ড অনুযায়ী এলাকার তালিকা
ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের (DNCC) মোট ১৪টি ওয়ার্ড এই আসনের ভোটব্যাংক হিসেবে পরিচিত। ভোটারদের সুবিধার্থে নিচে ওয়ার্ডভিত্তিক তালিকা দেওয়া হলো:
| ওয়ার্ড নং | প্রধান এলাকা ও লোকেশন |
| ওয়ার্ড ১ | উত্তরা মডেল টাউন (সেক্টর ১ থেকে ১০ এর অংশবিশেষ)। |
| ওয়ার্ড ১৭ | খিলক্ষেত, নিকুঞ্জ-১, নিকুঞ্জ-২, কুড়িল বিশ্বরোড এলাকা। |
| ওয়ার্ড ৪৩ | ডুমনি, পাতিরা, তলনা (পূর্বাচল সংলগ্ন এলাকা)। |
| ওয়ার্ড ৪৪ | কাঁচকুড়া, বেলাইদ, ভাটুরিয়া। |
| ওয়ার্ড ৪৫ | উত্তরখান মাজার চৌরাস্তা, চামুরখান। |
| ওয়ার্ড ৪৬ | উত্তরখান, উজামপুর, মাউসাইদ। |
| ওয়ার্ড ৪৭ | ফায়দাবাদ, কোটবাড়ি, মৌশাইর। |
| ওয়ার্ড ৪৮ | দক্ষিণখান, নর্দাপাড়া, হলান। |
| ওয়ার্ড ৪৯ | আশকোনা, গাওয়াইর, কাওলা (এয়ারপোর্টের পূর্ব পাশ)। |
| ওয়ার্ড ৫০ | আজমপুর, মোল্লারটেক, প্রেমবাগান। |
| ওয়ার্ড ৫১ | উত্তরা সেক্টর ১১, ১২, ১৩, ১৪ এবং সোনারগাঁও জনপদ। |
| ওয়ার্ড ৫২ | বাউনিয়া, উলুদাহ, দলিপাড়া। |
| ওয়ার্ড ৫৩ | রানাভোলা, নয়ানগর, নলভোগ। |
| ওয়ার্ড ৫৪ | দিয়াবাড়ি, উত্তরা সেক্টর ১৫, ১৬, ১৭, ১৮ এবং হরিরামপুর। |
নোট: মূলত উত্তরা মডেল টাউনের সবকটি সেক্টর এবং দিয়াবাড়ি প্রজেক্ট এলাকা এই আসনের অন্তর্ভুক্ত।
এলাকার ভৌগোলিক সীমানা ও গুরুত্ব
উত্তরে: গাজীপুর মহানগর (টঙ্গী ব ব্রিজ)।
দক্ষিণে: ঢাকা-১৭ আসন (কুড়িল ও ক্যান্টনমেন্ট এলাকা)।
পূর্বে: বসুন্ধরা আংশিক ও পূর্বাচল সীমানা (রূপগঞ্জ)।
পশ্চিমে: ঢাকা-১৪ আসন ও মিরপুর বেড়িবাঁধ এলাকা।
এই সীমানার মধ্যেই রয়েছে বাংলাদেশের প্রধান আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর, হজ ক্যাম্প, এবং মেট্রোরেলের মেইন ডিপো। তাই প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক—উভয় দিক থেকেই এই আসনটি “হটস্পট” হিসেবে পরিচিত।
শেষকথা
ঢাকা ১৮ আসন হলো আধুনিক ঢাকা (উত্তরা) এবং পুরনো ঢাকার বর্ধিত অংশের (উত্তরখান-দক্ষিণখান) সংমিশ্রণ। আপনি যদি উত্তরা, তুরাগ, বিমানবন্দর বা খিলক্ষেত এলাকার বাসিন্দা হন, তবে আপনি নিশ্চিতভাবে এই আসনের ভোটার। নির্বাচন বা নাগরিক সেবার প্রয়োজনে নিজের সঠিক ওয়ার্ড ও থানা জানা থাকলে অনেক সুবিধা পাওয়া যায়।
ডিসক্লেইমার: এই তথ্যগুলো বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশনের সর্বশেষ সীমানা গেজেট এবং সিটি কর্পোরেশনের ম্যাপ বিশ্লেষণ করে তৈরি করা হয়েছে। সীমানা পুনর্নির্ধারণের কারণে ভবিষ্যতে তথ্যে পরিবর্তন আসতে পারে।